গোপাল ব্যানার্জি
27th ফেব্রুয়ারি সকাল 5 টায় শুরু করার কথা থাকলেও একটু দেরিতে শুরু হলো, এবারে আমরা 5 জন আমি রিন্টু নীলাদ্রি দা কৌশিকদা ও কৌশিক দার এক বন্ধু I যাইহোক কলাইকন্ডাতে আমরা ব্রেকফাস্ট করলাম Niladri দার বাড়ি থেকে আনা খুব সুন্দর আলু পরোটা এবং ধনেপাতার চাটনি দিয়ে, এই সময়ে আমরা 100 km পর পর বিরতি নিলাম এবং যাতে সকালের এনার্জি কাজে লাগিয়ে যথা সম্ভব সময় কমানো যায় I

পরবর্তী চায়ের জন্য বিরতি নিলাম ঘাটশিলা ওখান থেকে সোজা বেরিয়ে আমরা গালুডি থেকে বাঁদিক নিলাম এখান থেকে সরু রাস্তা শুরু হলো এবং পথে নানান কারণে বেশ দেরি হল I

যখন সারেন্ডার ফরেস্ট পেরিয়ে Meghataburu পৌঁছলাম তখন বিকেল প্রায় শেষের দিকে তাড়াতাড়ি একটা হোটেল খুঁজে জিনিসপত্র রেখে সোজা চলে গেলাম সানসেট ভিউ পয়েন্টে, যা দেখলাম অনেক দিন মনে থাকবে বিশাল ৩৬০ ডিগ্রী ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড়ের রেঞ্জ, নিচে মেঘ উপরে কুয়াশা চাদর ঢাকা অসম্ভব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য যেটা দেখার জন্যই এতদূর ছুটে আসা, তাড়িয়ে তাড়িয়ে সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম সবাই I সন্ধ্যে নেমে যেতেই বেশ ঠান্ডা লাগতে শুরু করেছে.. রুমে ফিরে টিফিন আড্ডা গান গল্প বেশ কিছুক্ষণ চললো এরপরে চিকেন রুটি দিয়ে ডিনার করে শুয়ে পড়া হলো। কালকের গন্তব্য পুরুলিয়া।
আজকে 28th ফেব্রুয়ারি ভোরের kiriburu থেকে সূর্য ওঠা দেখা সেটাও দারুণ.. আশেপাশে কিছুটা হেঁটে ঘুরে নিলাম, স্থানীয় একটি দোকানে ব্রেকফাস্ট করলাম খুবই সুস্বাদু ছাতুর পরোটা দিয়ে। সেখান থেকে বেরিয়ে kiriburu মার্কেট হয়ে saranda ফরেস্ট গালুডি হয়ে পৌঁছে গেলাম দুয়ারসিনি হাটে I

বেশ কিছুক্ষণ হাটে ঘুরে দেখা হল মন্দিরে যাওয়া হলো মন্দিরের পিছনে কিছু ফটো তোলা হলো এরই মধ্যে কৌশিকদা দুহাত ভরে কালোজাম আর পান্তুয়া এনে হাজির, সকলে মিলে সেসব খেয়ে হোটেল খুঁজতে পুরো এলাকাটা দুবার চক্র কাটা হলো I ওই পথের দৃশ্য কিন্তু বেশ উপভোগ্য ছিল, যাহোক অনেক ঘুরপাক খেয়ে শেষমেষ WBFTDC cottage এ উঠলাম, বেশ সুন্দর বড় বড় ঘর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালো কিন্তু খাবারের দাম বেশ কিছুটা বেশি থাকায় আমরা পাশেই স্থানীয় হোটেল থেকে রুটি চিকেন কষা আনিয়ে খেলাম, সঙ্গে জমাটি আড্ডা I এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক খুবই কম. রাত্রে হাঁটতে বেরিয়ে আরও একটি সুন্দর হোম stay দেখলাম ( satgurum ), আগে এটা চোখে পড়েনি.. কথা বলে জানলাম tariff ও খুব বেশি না.. বেশ কিছু ট্যুরিস্ট দের সাথে পরিচয় বিনিময় হলো I

আজকে 1st মার্চ ভোরের দৃশ্য হাঁটতে বেরিয়ে বেশ উপভোগ করলাম সবাই মিলে, এবারে বাড়ির পথে পুরুলিয়ার পলাশ দেখতে পাবো সেই আশা নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম বেশকিছুটা দেরী হলো, স্থানীয় দোকান থেকে বেশ ভালো breakfast করে বেরোলাম।

অসম্ভব সুন্দর আঁকাবাঁকা রাস্তা দুই ধারে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এসে পৌঁছলাম বেলপাহাড়ি থেকে কিছুটা পেরিয়ে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিলাম রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট ধাবাতে.. পলাশের দেখা সেভাবে পেলাম না তাই মনটা একটু বিষন্ন হয়ে আছে. সঙ্গে আজকে যেনো একটু বেশী গরম লাগছে আগের দুই দিনের থেকে I আবার যাত্রা শুরু করলাম যেতে যেতে একটা জঙ্গলে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা বিরতি নিচ্ছিলাম সেই সময় জঙ্গল থেকে স্থানীয় এক ছাগল পালক তীর ধনুক নিয়ে বেরিয়ে এলেন আর তার সেই তীর ধনুক নিয়ে রিন্টু কৌশিকদা মেতে উঠলো অনেকক্ষণ আনন্দ হাসি ঠাট্টা ছবি তোলা হল মনটা কিছুটা হালকা হল I ওখান থেকে বেরিয়ে কৌশিকদার বাড়িতে সুন্দর টিফিন ও চা খেয়ে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ যে যার বাড়িতে পৌঁছে যাত্রা
সমাপ্ত করলাম I
টোটাল যাত্রাপথ 930 KM Dunlop থেকে Dunlop.
খরচ মাথা পিছু 1665 টাকা তেল বাদে..












